BDvairlnews: স্বীকৃতি নিয়ে ভাবনা-ঐক্যবদ্ধ থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ-মাও তৈয়্যিবুর রহমান চৌধুরী
,                              সদ্য সংবাদ:

tasnif media

tasnif media

Friday, 14 April 2017

স্বীকৃতি নিয়ে ভাবনা-ঐক্যবদ্ধ থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ-মাও তৈয়্যিবুর রহমান চৌধুরী

হাফিজুর রহমান আবুহানিফাঃ ক্বওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি নিয়ে দঃ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাও তৈয়্যিবুর রহমান চৌধুরীর ভাবনা- কওমী মাদরাসা শিক্ষার স্বীকৃতি একটি পুরাতন ইস্যু। সব সরকারের অামলে অল্প বিস্তর অালোচিত এটি। কিন্তু কেউ বাস্তবায়নে অান্তরিকতা দেখায়নি । এবার বিশাল প্রতিকুলতা ডিঙ্গিয়ে ঐক্যবদ্ধ মঞ্চে স্বীকৃতি এসেছে। এটি আমার নিকট সবচাইতে বড় পজেটিভ দিক। সরকার প্রধান হিসেবে যে অান্তরিকতা, ধৈর্য্য ও উদারতা প্রদর্শন করেছেন এর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ না দিলে কৃপনতা হবে।
স্বাধীনতার পর যে ক'টি সরকার দেশের মসনদে ছিলো সবাই শুধু স্বীকৃতির অাশ্বাস দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। এরশাদ সরকারের অামলে স্বীকৃতির কাছাকাছি গিয়েও মান নির্ধারন নিয়ে বিষয়টি থমকে যায়। এরপর বহুদিন চলে যায় কিন্তু স্বীকৃতির কোন অগ্রগতি হয়নি। সর্বশেষ ৪ দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এলে স্বীকৃতি হবে এই অাশায় সবাই বুক বেধেঁ ছিলো। কিন্তু সব গুড়েবালি। প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েও স্বীকৃতির মুলা ঝুলন্ত রাখা হয়। কি কারনে কাদের ইন্ধনে কওমীর লক্ষ লক্ষ প্রজন্মের স্বীকৃতি হয়নি সেটি আমার অালোচ্য বিষয় নয়। সরকার প্রধানের অান্তরিকতা থাকলে বেগম জিয়া স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করতে পারতেন। যেমনটি শেখ হাসিনা করে দেখিয়েছেন।
মুল কথা হলো কওমী প্রজন্মের দোয়া সমর্থন ও অাশীর্বাদ সবাই নিতে চায়। আমরাও যুগযুগ ধরে শুধু দিয়ে এসেছি বিনা স্বার্থে। কিন্তু অামাদের নিয়ে হালুয়া রুটি আপনারা খেয়েই যাবেন। বিনিময়ে কিছুই দিবেন না। এটি কেমন ইনসাফ। ন্যুনতম অধীকার শিক্ষার স্বীকৃতি দিতেও টালবাহানা করবেন এটি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না।
বর্তমান সরকারের সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন সেটি ব্যংখ্যা করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু গতকাল সরকার প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা যে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করেছেন তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। কওমী মাদরাসার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদানের স্বীকৃতি, উলামায়ে কেরামের প্রতি রাষ্ট্রের সম্মোধন, সম্মাননা এটি একটি মাইলফলক অধ্যায়। কোন সরকার এভাবে কওম ও কওমিয়্যাতের মুল্যায়ন করেছে এটি আমরা জানা নেই। ভিতরে কার কি উদ্দেশ্য অাছে সেটি অালোচনার বিষয় নয়। মুল্যায়নের বিষয় রাষ্ট্রের বাহ্যিক অাচরন। প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা ও সাহসের প্রতিফল যে স্বীকৃতি, এতে কোন সন্ধেহ নেই। ডান বামের অনেক নেতানেত্রী, সুশিল, বামপন্থি, রামপন্থি ও নাস্থিক্যবাদী গোষ্টির গালে চপেটাঘাত করেই তিনি কওমী মাদরাসার স্বীকৃতি ঘোষণা করেছেন। যার প্রতিফল, প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যে সামনে অাসতে শুরু করেছে। তিনি এক ঢিলে অনেক পাখি শিকার করেছেন। এটি তার প্রজ্ঞাপুর্ণ রাজনৈতিক দুরদর্শী চিন্তার ফসল। আমাদের এ নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। স্বীকৃতির পুর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের প্রতিই আমাদের দৃষ্ঠি নিবন্ধন করতে হবে। ভবিষ্যত বলে দিবে স্বীকৃতির ঘোষণা কওমী প্রজন্মের জন্য কতটুকু পজিটিভ বা কতটুকু নেগেটিভ। এটি নিয়ে বিচার বিশ্লেষনের সময় এখন নয়।
স্বাধীনতা পরবর্তী যত সরকার ক্ষমতায় এসেছে কওমী পন্থীদের তেমন মুল্যায়ন কখনো হয়নি। স্বার্থ উদ্ধারকারী গোষ্ঠী একের পর এক পালাক্রমে নিজেদের ফায়দা হাসিল করেছে। এবার প্রধানমন্ত্রী সেচ্ছায় স্বীকৃতির ঘোষণায় তাদের স্বার্থে অাঘাত অাসতে পারে তাই গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে। সরকারপন্থী ও সরকারবিরোধী হিসেবে পরিচিত গোষ্ঠীর তৎপরতা চোঁখে পড়ার মত। তাদের অস্বস্তি ক্রমেই জনসম্মুখে বেড়িয়ে অাসছে। এদিকটি বিবেচনায় রেখে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
কওমী প্রজন্মের রাহবার হযরাত উলামায়ে কেরামের দৃষ্টিঅাকর্ষন করে বলতে চাই। আপনারা যেভাবে স্বীকৃতির প্রস্তাবনা দিয়েছেন সেভাবে প্রধানমন্ত্রী স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছেন। তাই আর মতবিরোধ না করে ভবিষ্যত করনীয় নির্ধারনে মনোযোগী হবেন এটিই আমাদের দাবী। ৬টি বোর্ডের কর্ণধার হযরাতগণ স্বীকৃতির মঞ্চে যেভাবে বসেছেন সেভাবে ঐক্যবদ্ধতা বজায় রাখা সবচাইতে জরুরী। একটি কথা নির্দিধায় বলা যায় আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কওমী মাদরাসায় অবৈধ হস্তক্ষেপ কেউ করতে পারবেনা। অন্তত কওম ও কওমীর স্বার্থে অাপনাদের ঐক্যবদ্ধ এই বন্ধন টিকে রাখাটা সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। আপনাদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তে অভিন্ন সিলেবাস থেকে নিয়ে প্রয়োজনীয় সবটুকু হোক ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অালোকবর্তিকা। এটি সর্বান্তকরণে আমাদের কামনা।

0 মন্তব্য করেছেন:

Post a Comment

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

facebbok