BDvairlnews: কওমী দুর্গ : স্বীকৃতি বনাম সন্ধি
,                              সদ্য সংবাদ:

tasnif media

tasnif media

Thursday, 27 April 2017

কওমী দুর্গ : স্বীকৃতি বনাম সন্ধি

কওমী দুর্গ : স্বীকৃতি বনাম সন্ধি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | 

আরিফুল ইসলামঃ-কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির আন্দোলন কওমীদের দীর্ঘ দিনের একটি নাগরিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন। শাসক শ্রেনী যখন নাগরিকদের কোন দাবি দাওয়া মেনে নেয় তখন তাদের নিজস্ব ভালোটা (রাজনীতি) তারা বিবেচনা করাটাই স্বাভাবিক। নাগরিক অধিকার আদায়ের নি:শর্ত লড়াইকে সন্ধি হিসাবে যারা বিবেচনা করছেন তাদের ভুল অচিরেই প্রকাশ পাবে ইন শা আল্লাহ।সন্ধি কখনো একতরফা হয় না। কওমী মাদ্রাসার সর্বজন শ্রদ্ধেয় অভিভাবক আল্লামা শাহ আহমদ শফী নিঃশর্ত ভাবে আদায় করেছেন কওমীর সনদের স্বীকৃতি। যখন কওমীর পক্ষ থেকে দাবি আদায়ে সরকারকে কোন ছাড়ই দেওয়া হয়নি, তখন কিভাবে এটিকে সন্ধি হিসাবে গন্য করা যেতে পারে ? বরং যেসব শক্তি মনে করেছিল কওমী মাদ্রাসা তাদের ছাড়া দূর্বল, তাদের চিন্তার শুদ্ধতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে গনভবনে আলিমদের উপস্থিতি।
সব সরকারই খেলেছে রাজনৈতিক খেলাগনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগনের মনোতুষ্টির মাধ্যমে শাসক তার ক্ষমতায় টিকে থাকার চিন্তা স্বাভাবিক একটি বিষয়। আর বাংলাদেশের রাজনীতিও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলই ধর্মকে নিয়ে রাজনীতি করেছে। এই রাজনীতি করার মধ্যে হয়তো পরিমাপগত ও গুনগত পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু উভয় দলই তাদের চেষ্টার সর্বোচ্চ করেছে। কেউ যেমন মনে করেছে যুদ্ধপরাধী বিচারকে ঝুলিয়ে রেখে রাজনীতি করবে ঠিক তেমনি অন্যরাও মনে করেছে সনদের স্বীকৃতি ঝুলিয়ে রাজনীতি করবেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা বোঝা বান্দার পক্ষে অসাধ্য।তবুও এই ক্ষেত্রে ছোট্ট একটা বিষয় পাঠককে মনে করিয়ে দিতে চাই, শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক তৎকালীন বি এন পির জোট সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যে, সনদের স্বীকৃতি নিয়ে টালবাহানা করলে তার চরম মাশুল দিতে হবে। আল্লাহওয়ালা লোকের কথা বাসি হলেও ফলে। বি এন পি সরকারের সেই টালবাহানার ফল আজ বি এন পি ভোগ করল। যে পরিস্থিতিতে আজ বি এন পিকে পড়তে হয়েছে তা কখনোই হত না, যদি সেই সময় বি এন পি সনদের স্বীকৃতির দ্রুত বাস্তবায়ন করত।
অবশ্য আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সনদের স্বীকৃতি বি এন পি সরকারের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে শুরু হয়ে আওয়ামী সরকারের হাত দিয়ে শেষ হলে তার দ্বারা কওমী সনদ স্বীকৃতি অধিক ফলপ্রসুই হবে। কেননা বাম রাজনীতি ঘেষা আওয়ামিলীগের পক্ষ থেকে এই স্বীকৃতি নিয়ে প্রচন্ড একটা বিরোধিতা আসতে পারত। নিঃসন্দেহে আল্লাহই উত্তম কৌশলী।
যদিও হেফাজতের সাথে সরকারের কোনরূপ বৈঠকই হয়নি তবুও আমীরে হেফাজতের সাথেই কওমী মাদ্রাসার সনদের ইস্যুতে গনভবনে সর্বোচ্চ মর্যাদায় বৈঠক হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়ে গেছে নানান হিসাব নিকাশ। এই হিসাব নিকাশে আওয়ামিলীগ যতটা চতুর ভূমিকা পালন করেছে বি এন পি ততটাই অসচেতন ভূমিকা পালন করেছে।
আওয়ামিলীগ এবং বি এন পি বাংলাদেশের বৃহত্তর দুটি রাজনৈতিক দল। উভয় দলের নেতাকর্মীদের মনে রাখতে হবে কওমী মাদ্রাসা কোন একক রাজনৈতিক দলের মিলনভূমি নয়। এখানে ভিন্ন মত এবং পথের রাজনৈতিক চিন্তার মানুষ রয়েছে। কিন্তু সবার চিন্তা একটি স্রোতে মিলিত হয়েছে আর তা হল ইসলাম বিদ্ধেষীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন। এখানে কোন রাজনৈতিক দল মূখ্য নয়। বরং তাদের (আওয়ামিলীগ ও বি এন পি ) উপর ভর করে ইসলাম বিদ্ধেষী শক্তি যে কার্যকালাপ চালিয়ে যায় তাকে দমন করাটাই কওমীয়ানদের জন্য মূখ্য বিষয়। ইসলাম বিদ্ধেষীদের অপতৎপরতা চলে আসছে স্বাধীন বাংলাদেশ জন্মের সূচনাকাল থেকেই। আর এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছিল কওমী অঙ্গনে। দীর্ঘকাল ধরে সেই চাপা ক্ষোভ কোন ব্যানারে একীভূত হতে পারে নি বলে সেই শক্তিকে রাজনৈতিক মহল দেখেনি। কিন্তু ২০১০ থেকে সেই শক্তি বিকশিত হয়ে ২০১৩ তে তা বিস্পোরিত হয় শাহবাগের আড়ালে চরম বামদের উত্থানের কারনে।
আল্লামা শাহ আহমেদ শফী কোন নতুন শক্তি গড়ে তোলেন নি বরং একীভূত করেছেন। কওমী ছাত্র শিক্ষকদের এই শক্তিকে তার সুদক্ষ নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তাই আমরা সুস্পষ্টরূপে বলতে পারি এই শক্তি কোন রাজনৈতিক দলের ক্রীড়নক হিসাবে কখনোই ভূমিকা পালন করবে না। বরং এই শক্তির ভিত্তিই হল শাসকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ইসলাম বিদ্ধেষী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় অটল থেকে আপোষহীন লড়াই চালিয়ে যাওয়া।
ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় কওমী কেল্লা
হেফাজতের এই লড়াই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াই। ইসলামের সৌধকে সুউচ্চ রাখার লড়াই। আর কওমী মাদ্রাসার সনদের লড়াইও ইনসাফের লড়াই। আজ যারা এই কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের এই নাগরিক সুবিধা আদায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হেফাজতের আন্দোলনে নিহত শহীদের সাথে গাদ্দারীর প্রশ্ন তুলছেন তাদের কাছে সবিনয়ে জানতে চাই, আপনাদেরও তো অজস্র নেতা কর্মী গুম খুন হয়েছেন, আহত নিহত হয়েছেন, আপনারা কি আপনাদের কোন সার্টিফিকেট সরকার থেকে নেওয়া বন্ধ রেখেছেন ? কখনো বলেছেন যে এই খুনী সরকারের হাত থেকে আমরা কোন রকম রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা গ্রহন করব না, সরকারের অধীনে আমাদের কোন লোক চাকুরী করবে না, বলেছেন ???
আলিম উলামাদের নিগ্রহের ইতিহাস তো সুপ্রাচীন। এটা নিয়ে আমাদের আক্ষেপ নেই। কিন্তু আক্ষেপ তখন হয় যখন দেখি বন্ধুবেশী মানুষগুলো লক্ষ লক্ষ ছাত্রের ইনসাফ প্রাপ্তিতে আনন্দিত না হয়ে ব্যথিত হয়। তাহলে কোন ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা লড়াই করছেন ? শুধু মাত্র সরকারের পতন দ্বারাই ইনসাফ কায়েম হবে এমন নিশ্চয়তা কে দিতে পারে ? যে সার্টিফিকেট নিতে আপনাদের একটি দিনের জন্যও বাধেনি সেই সার্টিফিকেট নিঃশর্ত ভাবে যদি একজন আল্লামা শফী এনে দেন লক্ষ লক্ষ ছাত্রের কাছে, তবে আপনাদের তো খুশি হওয়ার কথা। কারন মানুষের অধিকার আদায়ের জন্যই তো আপনার লড়াই বলে ঘোষনা দিয়েছেন বারংবার।
মনে রাখবেন, আল্লামা শফীর যদি কেবল গণভবনে বসার বাসনা থাকতো, তবে তিনি বহু আগেই বসতে পারতেন।
আল্লাহ যাকে সম্মানিত করার ইচ্ছা করেন তাকে অপদস্থ করার ক্ষমতা কারুরই নেই। আল্লামা শফী সহ কওমী আলিমদের এই সম্মান সেই অজস্র শহীদের বিজয়ের বারতা। যাকে এই প্রধানমন্ত্রী সহ তার মন্ত্রীপরিষদ অপদস্থ করতে চেয়েছিলেন তাকেই আবার সম্মানিত করে মূলত শহীদদের রক্তকেই আল্লাহ সম্মানিত করেছেন। এবং একথা প্রমানিত হয়েছে যে শহীদের রক্ত বৃথা যায় না। এই শহীদদের রক্ত কওমী মাদ্রাসার নিঃশর্ত স্বীকৃতির পথ তৈরি করে কওমী মাদ্রাসাকে রক্ষা করেছে সেই সব জালিমদের হাত থেকে যারা কওমী মাদ্রাসাকে স্বীকৃতির আড়ালে নানা শর্তের বেড়াজালে বন্দী করে ধংস করতে চেয়েছিল।
ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির উপায়
ফ্যসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থাকে কিভাবে ধংস করা হবে ? কী তার তরিকা ? আওয়ামী সরকারের বিপুল ভোট ব্যাংক যদি আপনি অস্বীকার না করেন তবে আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি, যেই ফ্যাসিষ্ট সরকারের পিছনে দাড়িয়ে আছে কোটি কোটি মানুষরে সমর্থন সেই সরকারের পতনের পর আরেকটি ফ্যসিস্ট সরকার কায়েম হতে বাধ্য। বরং ফ্যসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে যেভাবে হেফাজত একটার পর একটা দাবি আদায় করেছে তার প্রশংসা না করে আপনি উদারনৈতকি রাষ্ট্র ব্যবস্থা কিছুতেই কায়েম করতে পারবেন না। আপনি বিন্দু বিন্দু জলকে অস্বীকার করে যেমন সাগরের কল্পনা করতে পারেন না তেমনি ইনসাফের আন্দোলনের এই পর্যায়গুলোকে অস্বীকার করে ইনসাফ ভিত্তিক উদারনৈতিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করতে পারবেন না।
ফ্যসিস্ট মনোবৃত্তির বিরুদ্ধে যদি আপনি একটি ফ্যসিস্ট গোষ্ঠীকে দাড় করিয়ে দেন তবে সরকার পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ফ্যাসিজমের কোন পরিবর্তন হবে না। এই যে বাংলাদেশের বৃহত্তর দুটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী, তারা কেউই কিন্তু ফ্যসিবাদী চরিত্রের বাইরে না। তাই রাষ্ট্রে একটি অবহেলিত শ্রেনীকে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনই এখানে মূল বিষয়, সেটা যে কোন সরকারের কাছ থেকেই হোক না কেন। দুই ফ্যসিস্ট রাজনৈতিক দলের কোন একটির পক্ষালম্বন বা বিরোধিতা করে যতটুকু ইনসাফ কায়েম হতে পারে, তার চেয়ে বহুগুনে বেশী ইনসাফ কায়েম অবহেলিত কোন শ্রেনীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি আদায়ের মধ্য দিয়ে হতে পারে।
দুটোর রূপ ভিন্ন কিন্তু মূল এক
ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার আর ধর্মের জন্য রাজনৈতিক কার্ডগুলো সঠিক ভাবে পরিচালনার মধ্যে পার্থক্য আমাদের বুঝতে হবে। এই দুটো বিষয়কে এক করে ফেলা ধর্মকে রাষ্ট্র ব্যবস্থা হতে দূরে রাখার প্রচেষ্টার নামান্তর। আর বাহ্যিক ব্যবহারিকভাবে রাজনীতি তো রাজনীতিই । দেখার বিষয় হল কে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় তার প্রয়োগ করে আর কে অবৈধ ক্ষমতা চর্চার জন্য। রাজনীতির ব্যবহারিক অর্থ যদি হয় রাজনৈতিক ক্ষমতা তৈরির জন্য সামাজে শক্তির ভারসাম্য বদলানেরা কারিগরি, তবে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে কওমী মাদ্রাসা কিংবা হেফাজত ফ্যসিষ্ট রাজনৈতিক গ্রুপগুলোকে মোক্ষাম চপেটাঘাত শাপলায় যেমন করেছে ,গনভবনেও তেমনি করেছে। দুটোর রূপ হয়তো আলাদা কিন্তু মূল একই । আর তাই হেফাজতের আমীরের সমস্ত দাবি মেনে নিঃশর্ত ভাবে গনভবন থেকে অবহেলিত শ্রেনীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায় সকল দিক থেকেই বিজয়। আজ হাসিনা এবং তার সহচরদের মুখ থেকে হেফাজতের নেতাদের বিষয়ে স্তুতি প্রমান করে যে শাপলায় আওয়ামিলীগ মূলত পরাজিত হয়েছিল। তাই যারা আর ঢাকায় প্রবেশ করার কথা না, তারা গনভবনে প্রবেশ করল।
এই বিজয় নিয়ে দুটো শ্রেনী প্রশ্ন তুলছেন । প্রথম শ্রেনী যারা সত্যিকার অর্থে হেফাজতকে ভালবাসে, কওমী মাদ্রাসাকে ভালবাসে। আমরা তাদের ভালবাসার মূল্যায়ন করি । এবং যে সংশয় তারা প্রকাশ করছেন আগামী দিনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, তার সাথে আমরা একমত। কারন যে কোন পদক্ষেপের বিপরীতি ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া তো আছেই। কিন্তু একজন দক্ষ সমাজনেতা দুটো অপশনের সেটিই গ্রহন করেন যেটি অধিক কল্যানকর।
কিন্তু এক্ষেত্রে দ্বিতীয় শ্রেনীর পাল্লাই মূলত ভারী। তারা হেফাজত আমীরের বিরোধিতা করছেন মূলত নিজেদের হীন স্বার্থে। তারা হেফাজত তথা কওমীকে ভালবাসার একটা ছল চাতুরী করছিল নিজেদের ক্ষমতার সোপান হিসাবে ব্যবহারের জন্য। কিন্তু সেই লক্ষ্যে তারা যখন নিজেদের ব্যর্থ মনে করলেন, তখনই তাদের আসল চরিত্র প্রকাশ পেল। অথচ হেফাজতের সুস্পষ্ট ঘোষনা ছিল যে , কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানো অথবা কাউকে ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়া হেফাজতের লক্ষ্য নয়।
প্রশ্ন হতে পারে কেন নয় ? উত্তরটা খুব সোজা, যা আগেও দিয়েছি। বাংলাদেশে এখনো এমন কোন দল বা শ্রেনী গড়ে ওঠেনি যারা ক্ষমতায় গেলে আমরা আশা করতে পারি যে রাষ্ট্রীয় অনাচার, ফ্যাসিজম, জুলুম, লুটতরাজ বন্ধ হবে। কিংবা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রবল কোন রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম হবে।
রূহের প্রয়োজন দেহ নামক একটি কাঠামো
কওমী মাদ্রাসা জনগনের স্বীকৃতি , মহব্বত সাথে নিয়ে অতীতে চলেছে, সামনেও চলবে। জনগনের সাথে কওমী মাদ্রাসার এই সম্পর্ক নিয়ে রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করবেন এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু জনগন যেমন রাষ্ট্র কাঠামোর বাইরে চলে না, ঠিক তেমনি কওমী মাদ্রাসাকেও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিষয়ের মুকাবিলা করতে হয়। রাষ্ট্রের নিজস্ব কোন অর্থ থাকে না। রাষ্ট্রের অর্থ মূলত জনগনেরই অর্থ। সেই অর্থ দিয়ে এমন সব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে যেখানে নীতি নৈতিকতা প্রচারে কওমী মাদ্রাসার আলিমগন পৌছা জরূরী। যেমন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা মসজিদ, মাদ্রাসা, সাধারন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এগুলোতে প্রবেশের পথ কি ? এগুলো যে ফ্যসিষ্ট মনোবৃত্তির অধীনে দাস টাইপের জনগন তৈরি করছে, তাদের দাসত্বের মনোবৃত্তি থেকে বের করে আনার জন্য কি সেখানে একজন আল্লাহভীরু স্বাধীনচেতা আলিম জরূরী নয় কি ? এটাক শুধু চাকুরীর অর্থে দেখানোর চেষ্টা করা নির্বুদ্ধিতা ছাড়া কিছু নয়। মনে রাখতে হবে শরীর নামক কাঠামোর মধ্যেই রূহ চলে। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে সমাজকে পরিবর্তন করা যায় না।
আর তাই বৃহত্তর কওমী ছাত্র সমাজ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চায়। তারা রাষ্ট্রীয় ঐ সকল ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে চায় যেখানে প্রবেশ করে তারা সমাজকে সুস্থ পথে রাখার জন্য কাজ করতে পারবে। আর যারা চায় না তাদের পরিমান অত্যন্ত নগন্য। তাই সমস্ত কিছু বিবেচনা না করে , যারা আলিমদের রূহানিয়্যাত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা অর্বাচীনের ন্যায় আচার প্রদর্শন করছেন মাত্র।
মানুষের মধ্যে সুপ্ত পরমার্থিক গুণাবলিকে বিকশিত করাই যখন শিক্ষার প্রথম উদ্দেশ্য আর কওমি মাদ্রাসা যখন সেই সুনির্দিষ্ট কাজটি করে তখন পরমার্থিক গুনাবলি বিকশিত করার কাঠামো গুলোতে প্রবেশ ভিন্ন উপায় কি ? আল্লাহ তা’আলা দেহের মধ্যেই রূহকে ফুকেছেন। তাই রাষ্ট্র পরমার্থ বিকাশের যেসব কাঠামো তৈরি করছে সেই কাঠামো থেকে দূরে থেকে সমাজের সুস্থ বিকাশ কল্পনাই করা যায় না।
প্রয়োজন প্রবেশের উন্মুক্ত দ্বার
ইটের দেওয়ালের ভিতরই যখন মানুষ বাস করে, তখন সেখানে প্রবেশ করতে একটা দরজা চাই। আর সেই দরজাটা হল কওমী মাদ্রাসার সনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। আর এই কারনেই আজ ঐসব শ্রেনী ক্ষেপেছে যারা মানুষকে মানুষের দাসত্বের দেওয়ালে বন্দী রাখতে চায়। সত্যি বাংলাদেশের সেক্যুলারদের জন্য দুঃসংবাদ।
তাই আমি পরিষ্কার বলতে চাই, এই সার্টিফিকে দুনিয়াবী হলেও এর লক্ষ্য দুনিয়াবী উপার্জন নয় । বরং ঐসব ঘরে প্রবেশের অনুমতি যাতে মানুষকে আবদ্ধ করে মানুষেরই দাসত্বের শিক্ষা দেয়া হয়। তাই আশা করি কেউ এটাকে ইবলিশি তর্কে পরিনত করার অপপ্রয়াস চালাবেন না।
আত্মসমালোচনা ভালো। কিন্তু কেউ যদি আত্মসমালোচনার স্টাইলে বিরোধী শিবিরের হাতে অস্ত্র তুলে দেন তবে তাকে আমরা কেবল অর্বাচীন বলেই ক্ষান্ত দিতে পারি না। বরং পাল্টা বয়ান জরুরী। আমাদের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা জরূরী। এবং সেই সাথে এই কথাও বলব যারা কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতিকে “সন্ধি” বলছেন তারা নৈতিকভাবে ফ্যাসিষ্ট শাসক গোষ্ঠী থেকে যে কোন নাগরিক দাবি আদায়কে “সন্ধি” বলতে বাধ্য থাকবেন। আছে কি আপনাদের সেই হিম্মত ?
সর্বশেষ বেফাকুল মাদারিসীন বাংলাদেশের মুফতি বোর্ডের সম্মানীত সদস্য মুফতি হাবিবুর রহমান কাছেমীর একটি বক্তব্য পেশ করব ।তিনি বলেছেন “আমাদের কাছে সনদের চেয়ে আদর্শ বড় ।” অতএব অপপ্রচারকারীর অপপ্রচার অচিরেই নিঃশেষিত হবে ইন শা আল্লাহ।

0 মন্তব্য করেছেন:

Post a Comment

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

facebbok