BDvairlnews: শব-ই বরাত : তাৎপর্য ও ফযীলত : মাহবুবুল হক সালমান
,                              সদ্য সংবাদ:

tasnif media

tasnif media

Thursday, 11 May 2017

শব-ই বরাত : তাৎপর্য ও ফযীলত : মাহবুবুল হক সালমান

 শব-ই বরাত : তাৎপর্য ও ফযীলত
শবে বরাত দু’টি শব্দের সমষ্টি। প্রথম শব্দটি ‘শব’ ফারসী শব্দ,যার অর্থ:রাত, রজনী। দ্বিতীয় শব্দ ‘বরাত’আরবী শব্দ,যার অর্থ মুক্তি। এভাবে শবে বরাতের অর্থ মুক্তির রজনী।
নামকরণের কারণ: কোরআনে কারীমে এ রাতের কোন নাম উল্লেখ নেই। বলা হয়েছে শাবান মাসের মধ্য রাত্রি অর্থাৎ ১৪ তারিখ দিবাগত রাত। তবে বিশ্বনবী মুহাম্মদে আরবী সা.এর ভাষ্যমতে এ রাত্রিতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের ডেকে বলেন,যারা পাপ থেকে মুক্তি পেতে চাও,মুক্তি চাও;আমি  মুক্তি দেবো। যারা রোগাক্রান্ত আছো,আমার কাছে সুস্থ্যতা চাও; আমি সুস্থ করে দেবো। যারা শোকগ্রস্থ আছো,আমার কাছে মুক্তি চাও আমি মুক্তি দেবো। এভাবে আল্লাহ তায়ালা সারা রাত মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজন ও সমস্যার  কথা উল্লেখ করে মুক্তির আহবান করতে থাকেন তাই এ রাতকে শবে বরাত বা মুক্তির রজনী বলা হয়।
শবে বরাতের ফযীলত: আম্মাজান হযত আয়েশা সিদ্দিকা রাযি.হতে বর্ণিত,তিনি বলেন যে,এক রাত্রে আমি হুজুর সা.কে না পেয়ে তাঁর খোজে বের হলাম। হঠাৎ দেখি হুজুর সা. জান্নাতুল বাকীর পাশে অবস্থানরত। আমাকে দেখে হুজুর সা. বললেন,হে আয়শা! তুমি কি ভয় করছো যে,আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার উপর জুলুম করছেন? আমি বললাম,ইয়া রাসুলাল্লাহ সা. ! আমি ধারণা  করেছিলাম আপনি আপনার অন্য কোন স্ত্রীর কাছে চলে গেছেন। হুজুর সা.বললেন,আল্লাহ পাক শাবান মাসের পনেরতম রাাত্রতে প্রথম আকাশে অবতীর্ণ হন এবং বানু কাল্ব গোত্রের বকরীর পশমের চেয়েও বেশী পাপীষ্টদের ক্ষমা করেন।(তিরমিজী,মুসলিম)
হযরত মাআ’জ রাযি.হতে বর্ণিত,হুজুর সা.বলেছেন,আল্লাহ তায়ালা শাবানের পনেরতম রাত্রিতে সকল সৃষ্টিকুলের প্রতি নিবিষ্ট হন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন।(তাবরানী,ইবনে হিব্বান)
শবে বরাতে করণীয়: হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,তোমরা শাবানের মধ্য তারিখ রাতে জাগ্রত থাকো এবং দিনে রোজা রাখো। শবে বরাতের করণীয় সম্পর্কে কোরআন-হাদীস ও ফিকহের কিতাবাদীতে যে সকল আমলের উল্লেখ পাওয়া যায় তা হল,১.বেশী বেশী নফল ইবাদত করা। তবে এর পদ্ধতি  কি হতে পারে হাদীসে উল্লেখ নেই। তাই অন্যান্য নামাজের ন্যায় এ রাতে নামাজ পড়তে হবে। ২.পরের দিন নফল রোজা রাখা। এ রাতে বেশী বেশী দোয়া করা। সমস্থ রোগ-শোক,অভাব-অনটন,ও দারিদ্রতা থেকে মুক্তি চাওয়া। বিশেষ করে গোনাহ থেকে মুক্তি চাওয়া। ৩.জিয়ারতের জন্য কবরস্থানে যাওয়া। যেহেতু এ রাতে হুজুর সা. জান্নাতুল বাকীতে গিয়েছেন। তবে  এক্ষেত্রে স্বদলবলে আড়ম্বরের সাথে যাওয়া নিষেদ।৪. এ রাত ইবাদতের রাত । তাই ফোকাহায়ে কেরাম এ রাতে গোসল করা মুস্তাহাব বলেছেন। ৫. যেহেতু এ রাত বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ তাই এ রাতে ইবাদত করলে যেমন অধিক সওয়াব পাওয়া যাও তেমনি গোনাহ করলে অধিক গোনাহ হয়। তাই আবশ্যক হল এ রাতে গোনাহ বেচে থাকা এবং তাসবীহ-তাহলীল,তওবা-ইস্তেগফার ও নফল নামাজ আদায় করে এ রাতটিকে অতিবাহিত করা।
শবে বরাতে বর্জনীয়: এই রাতে যেসব বর্জনীয় আমল পরিলক্ষিত হয় যেমন,আতশবাজি,ফটকা ফোটানো,কবরে মোমবাতি প্রজ্জলন,হালুয়া-রুটি তৈরি ও বিতরণ ইত্যাদি।আতশবাজি ও ফটকা ফোটানো শবে বরাতের রাতে অন্যতম গর্হিত কাজ।এতে এবাদত বন্দেগীর পুত:পবিত্র পরিবেশ বিঘিœত হয়। আর্থিক দিক দিয়ে অপব্যয় ও অপচয়মূলকও বটে। হালুয়া-রুটি তৈরী করা ও বিতরণ করা খারপ কাজ নয়। তবে একটি বিশেষ ভ্রান্ত প্রেক্ষাপট স্মরণ রেখে হালুয়া-রুটি তৈরী ও বিতরণ জরুরি মনে করা বিদআত রূপে পরিগণিত হয়। বিদআত সর্বদাই পরিত্যাজ্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজীলত , করনীয় ও বর্জনীয় সবগুলো জেনে আমল করার তাওফীক দান করুন।আমীন!!
লেখক: সাধারণ সম্পাদক, লিখনী সাহিত্য সংসদ সুনামগঞ্জ


0 মন্তব্য করেছেন:

Post a Comment

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

facebbok