BDvairlnews: সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও এম পি দের মনোরঞ্জনের জন্য মডেল কন্যা সাপ্লাই দিত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাঈম আশরাফ
,                              সদ্য সংবাদ:

tasnif media

tasnif media

Sunday, 21 May 2017

সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও এম পি দের মনোরঞ্জনের জন্য মডেল কন্যা সাপ্লাই দিত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাঈম আশরাফ

স্টাফ রিপোর্টারঃ- পুলিশ রিমান্ড চলছে নাঈম আশরাফ হালিমের। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ভয়ঙ্কর সব তথ্য দিচ্ছে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাঈম আশরাফ হালিম। নাঈম আশরাফ হালিমের মতো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে জড়িত অনেক প্রতিষ্ঠান অনেক ব্যাক্তি। কিন্ত সকল প্রায় সকলের সঙ্গে সেলফি তুলতে পেরেছেন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে জড়িত এমন লোকের সংখ্যা কম। তবে ব্যাতিক্রম নাঈম আশরাফ হালিম। নাঈম পুলিশের কাছে অকপটে শিকার করেছে তার রাজনৈতিক পরিচয়ই এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সিরাজগঞ্জের ছেলে নাঈম ছিল সরাসরি বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সরাসরি সমর্থনপুষ্ট। এমনকি নাসিমের ছেলে তানভীর জয়ের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিমের বাসায় নাঈমের ছিল অবাধ যাতায়াত। তার এই রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে টাকা সব মিলিয়ে উচ্চাভিলাষী এবং বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল নাঈম। নাঈমও সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছে।

তবে মিডিয়া বা শোবিজের সঙ্গে জড়িত কিংবা অনেক উঠতি বয়সের উচ্চাভিলাষী দুইশতাধিক মেয়ের সঙ্গে তার বিশেষ সম্পর্কের কথা শিকার করেছে নাঈম। এদের অনেককেই নাঈম তার স্বার্থে কাজে লাগিয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, জামায়াত নেতার শ্যালক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ কমপক্ষে সাতজন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী, ১৩ জন এমপি এবং দুটি টিভি চ্যানেলের তিনজন সাংবাদিকের নাম পুলিশকে জানিয়েছে যাদেরকে নাঈম আশরাফ নিয়মিত মেয়ে সরবরাহ করতো। বিশেষ করে সাবেক মন্ত্রী হাসান মাহমুদ এবং বর্তমান প্রতিমন্ত্রী পলক ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে প্রায় প্রতি সপ্তাহে দুই ঘন্টা করে বিশেষ সময় কাটাতেন। নাঈম জানান, হাসান মাহমুদ ২০১৫ সালে বেলজিয়াম সফরকালে একজন বাংলাদেশী মডেল সেখানে হাসান মাহমুদের সঙ্গে একান্ত সময় কাটিয়েছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম জানায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে তানভীর জযে সঙ্গে কমপক্ষে তিনজন মডেলের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তার মাধ্যমে আরো একাধিক এমপির সঙ্গে নাঈমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। এভাবেই আওয়ামী লীগের নেতামন্ত্রীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীর হতে শুরু করে। কমপক্ষে দুজন মন্ত্রী এবং ১৩ জন এমপির সঙ্গে একান্তে বসে মদ্যপান করতেন নাঈম। এসময় মন্ত্রী এমপিদের অনুরোধে অনেক শোবিজ কিংবা অভিজাত পরিবারের মেয়েরাও মদের আড্ডায় শামিল হতো। নাঈম জানায়, এসব কারণে মিডিয়াতে এবং আওয়ামী রাজনৈতিক মহলে তার দ্রুতই ব্যাপক প্রভাব বাড়তে থাকে।
আগামী নির্বাচনে সে কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচন করারও স্বপ্ন দেখছিলো। সে কারণেই মোহাম্মদ নাসিম এবং তার ছেলে জয়ের ছবি দিয়ে মাস কয়েক আগে এলাকায় ব্যাপক পোষ্টারিং করেছিলেন। মোহাম্মদ নাসিমের অনুমতি নিয়েই সে রাজনীতিতে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়। নাসিমের ছেলে জয় তাকে আওয়ামী কাজীপাড়া ইউনিটের সহ সভাপতি বানায়।
একটি সূত্র জানায়, নাঈম পুলিশের কাছে নিজের জীবন নিয়েও শঙ্কার কথা বলেছেন। রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের ঘটনা ব্যাপক জানাজানি হলে প্রথমে সে দেশ ছেড়ে পালতে চেয়েছিলো । কিন্ত আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম তাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন কয়েকদিন ঢাকার বাইরে গা ঢাকা দিয়ে থাকতে। দিলদার বলেছেন, পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
কিন্তু দুইজন মডেল তারকা যারা বর্তমান ব্যাংক ডাকাত সরকারের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ খাতির রাখেন এ দুই মডেলের একজন নাঈমকে গোপনে জানিয়েছেন “বাঁচতে হলে পুলিশের হাতে ধরা পড়াই নিরাপদ অন্যথায় বিশেষ দুর্বলতার কারণে নাঈম যেসব মন্ত্রী এমপিদের ঘনিষ্ঠ হয়েছেন তারা তাকে প্রাণে বাঁচতে দেবেনা”। নাঈম পুলিশকে জানায় এই কারণেই সে তার ইনস্টাগ্রাম চালু রেখেছিলো। ফেইসবুক ও কয়েকদিন একটিভ রেখেছিলো। নাঈম সরাসরি পুলিশকে জানিয়েছে, গ্রেফতার হলে হয়তো জেলে যেতে হবে তবে সে প্রাণে বেঁচে যাবে এই কারণেই সে গ্রেফতারের জন্য প্রস্তুত ছিল। পুলিশ সূত্রটি দাবি করেছে, একজন মডেল নিয়ে তার সঙ্গে হাসান মাহমুদের কথা কাটাকাটি হয়েছে। নাঈম জানায় ওই মডেলটি হাসান মাহমুদের বিশেষ পছন্দের হলেও ওই মডেলটি হাসান মাহমুদকে বিকৃত রুচির বলে মনে করে। এটি নিয়ে হাসান মাহমুদ তার উপর ক্ষুব্ধ।
নাঈম জানায়, সে আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ার কারণে শোবিজ কিংবা মিডিয়ার লোকজন তার সঙ্গে সেলফি তুলতে আগ্রহ করতো আবার তার সঙ্গে অনেক মেয়েদের যোগাযোগ থাকার কারণে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এমপি তাকে বিশেষ খাতির করতো। এ জন্যই সরকারের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেহ পলক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিমের ছেলেসহ অনেক রাজনীতিকের সঙ্গে তার যেমন সেলফি রয়েছে তেমনি রয়েছে শোবিজ জগতের তারকাদের সঙ্গেও।
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর তদবির :
এদিকে বতমানে ঢাকায় রয়েছেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। তার সঙ্গে বর্তমান সরকারের সুসম্পর্ক রয়েছে তেমনি গণমাধ্যমের উপরও তার প্রভাব রয়েছে। এ কারণে এক মন্ত্রীর পরামর্শে আবদুল গাফফার চৌধুরীকে টিকেট দিয়ে ঢাকায় আনেন সোনা চোরাচালানি দিলদার আহমেদ সেলিম। একটি বিশেষ গোয়েন্দা সূত্রমতে, গাফফার চৌধুরী এরইমধ্যে দিলদারের পক্ষে একটি পরিস্থিতি তৈরী করার চেষ্টা করছেন। সূত্রের দাবি, গাফ্ফারের হস্তক্ষেপেই জুয়েলারী ব্যাবসায়ীরা ধর্মঘট ডেকেও কয়েক ঘন্টা পর আবার প্রত্যাহার করে নেয়। দিলদার আহমেদ সেলিমের কাছের একটি ঘনিষ্ট সূত্রমতে গাফফার চৌধুরী তাদেরকে আশ্বস্ত করে বলেছেন আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই গণমাধ্যমের রিপোর্টের ধরণ পাল্টে যাবে। ফলে ধর্ষিতা দুই মেয়ের ব্যাপারে জনমনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হবে। দিলদারের ঘনিষ্ট সূত্রের বিশেষ আবদুল গাফফার চৌধুরীর হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত হয়তো তাকে গ্রেফতার হতে হবেনা।বরং দিলদারকে গাফফার চৌধুরী আরও আশ্বাস দিয়েছেন শিগগীরই রিপোর্টিংয়ের ধরণ পাল্টে যাবে এবং এমনকি এই ইস্যুটিও দুএকদিনের মধ্যেই ধামা চাপা পড়ে যাবে। তিনি এ ব্যাপারে কাজ করছেন।

0 মন্তব্য করেছেন:

Post a Comment

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

facebbok