BDvairlnews: এনায়াতুল্লাহ আব্বাসীর মুখোশ উম্মোচনে সাংবাদিক সম্মেলনে আহলে হকের পূনাঙ্গ বক্তব্য
,                              সদ্য সংবাদ:

tasnif media

tasnif media

Thursday, 25 May 2017

এনায়াতুল্লাহ আব্বাসীর মুখোশ উম্মোচনে সাংবাদিক সম্মেলনে আহলে হকের পূনাঙ্গ বক্তব্য


সম্মানিত সাংবাদিক ভাইয়েরা!
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা ভাল আছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য শুরু করছি।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তিরোধানের পরই শ্বাসত ও সত্য ধর্ম ইসলামকে পূর্ববর্তী ধর্মের মত মানুষের বানানো রূসুম রিওয়াজে পরিণত করতে ৬০৪ হিজরীতে ইরাকের ইরবিল শহরের মুযাফফরুদ্দীন নামক এক উচ্চভিলাসী অপব্যয়ী বাদশা সর্বপ্রথম প্রচলিত মিলাদ মাহফিলের বিদআত চালু করেন।
হুজুর স.-এর ইন্তেকালের ৫৯৪ বছর বছর পরের আবিষ্কৃত একটি কাজ বেদায়াত বৈই কিছুনা। এ কারণেই কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম উক্ত বিদআতের বিরুদ্ধে তখন থেকেই সো”চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। লিখনী, বক্তৃতা-বয়ান ইত্যাদির মাধ্যমে সুন্নাতে নববীর গুরুত্ব ও বিদআতের খারাবী উপস্থাপন করে দ্বীনে হককে পরি”ছন্ন রাখার দ্বীনী দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে ৬৩৮ হিজরীর পর এক শাফেঈ আলেমের নবীজির শানে কবিতা শুনাকালীন অনি”ছায় দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু স্বার্থান্বেষী নামধারী আলেমরা নবীর জন্ম কাহীনির আলোচনা উপলক্ষে কিয়ামের নামে আরেকটি বিদআত চালু করে দ্বীনে হককে কলুষিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয় এবং মিলাদের সাথে কিয়ামকে একাকার করে “মিলাদ-কিয়াম” নামে নতুন একটি বিষয়কে ধর্মের নামে চালিয়ে দেয়।
উপমহাদেশের বিজ্ঞ উলামাগণ উক্ত বিদআতকে পরিত্যাগ করার সর্বো”চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। ফলে উপরোক্ত বিদআত অনুসারীদের মাঝে নানা দল ও ফিরক্বার জন্ম হয়। কেউ কেউ উক্ত বিদআতকে সুন্নাত, কেউবা ফরজের সমমান, কেউবা বিদআতে হাসানা নামে এ বিদআত জারী রাখেন। উলামায়ে হক, উলামায়ে দেওবন্দ প্রচলিত উক্ত মিলাদ ও কিয়ামকে বিদআত মনে করে।
কিন্তু এ বিদআতকারীদের কাফির বা ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেছেন এমন কঠোর বক্তব্য কখনোই প্রদান করেন না। বরং তাদের দরদের সাথে প্রমাণাদী উপস্থাপন করে উক্ত বিদআত থেকে বিরত থাকার জন্য আহবান করে থাকেন। কিš‘ অত্যান্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, এক শ্রেণীর মিলাদ কিয়ামপন্থীরা আমাদের উলামায়ে হক উলামায়ে দেওবন্দকে প্রচলিত মিলাদ কিয়ামের বিপক্ষে থাকার কারণে দেশের কোটি কোটি মুসলমান কওমী, থানবী, মাদানী, তাবলীগী, চরমোনাই, উজানীদেরকে নবীর দুশমন ওহাবী কাফির বলে আখ্যা দিয়ে সমাজে ফিৎনা সৃষ্টি করে।
যা তাদের বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে পরিস্কার। মিলাদ কিয়ামপন্থী এই শ্রেণীর লোকেরা উক্ত বিষয়টিকে মুস্তাহাব তথা করলে সওয়াব না করলে গোনাহ নাই বলে দাবী করলেও, যারা মিলাদ কিয়াম করেন না, তাদেরকে ফিৎনাবজসহ অহরহ ভর্ৎসনা করে থাকেন। লিখনী, বয়ান ইত্যাদির মাধ্যমে সাধারণ মুসলমানদের মাঝে নানাভিদ বিভ্রান্তি ও বিশৃংখলা সৃষ্টি ও বাহাস করার চ্যালেঞ্জবাজী করে সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করে থাকেন।
বর্তমানে এমনি এক ব্যক্তি হলেন জৈনপুর দরবারের গদ্দিনিশীন পীর দাবিদার মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। যিনি তার বিভিন্ন বক্তৃতা বয়ানে মিলাদ কিয়ামকে বিদআত সাব্যস্তকারীদের জিব টেনে ছিঁড়ে ফেলার হুমকি দেন। মিলাদ বিরোধীদের ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেছেন মর্মে চরমপর্যায়ের উগ্রতার প্রমাণ দেন।
এছাড়া বিভিন্ন মাহফিলে তার এসব উগ্রতার প্রতিবাদ কেউ করলে তাদের মারধরসহ শারিরীকভাবে হেনস্থা করার মত ঘৃণ্য আচরণও করে যান। “সাহস থাকলে বাহাসে বস কুত্তার বা”চারা” এরকম চরম জঘন্য গালি দিয়েও তিনি বাহাসের নামে দাঙ্গা হাঙ্গামা উস্কে দেন।
এ দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমাদ শফী সাহেবকেও পর্যন্ত অশ্লীল ভাষায় গালি দিতে ছাড়েননি। তার ভয়ে নাকি দেশের সমস্ত হক্কানী আলেমরা পালিয়ে বেড়ান এমন জঘন্য মিথ্যাচার তিনি সারা দেশব্যাপী করে বেড়ান। তার এই ফিৎনা বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘণ সত্বেও উলামায়ে হক, কওমী উলামাগণ দেশের শান্তি শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে তার সাথে কোন সংঘর্ষে লিপ্ত হননি। কিš‘ দিনদিন তার ঔদ্ধত্বতার মাত্রা ছাড়িয়ে যা”িছল। অবশেষে বিতর্কিত গালিবাজ, ফিৎনাবাজ, আলেম নামের কলঙ্ক এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাহেব তার প্রতিনিধি সাইফুদ্দীন আলমাহদীর মাধ্যমে বাংলাদেশের একজন তরুণ আলেম মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজীকে প্রচলিত মিলাদ কিয়াম বিষয়ক বাহাসের চ্যালেঞ্জ করেন।
যেহেতু মুরুব্বী হক্কানী ওলামায়ে কেরামেরগণও নাকি তার ভয়ে পালিয়ে বেড়া”েছন বলে চরম মিথ্যাচার করে আসছিল এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। তাই নিজেদের আত্মমর্যাদা রক্ষায় লুৎফুর রহমান ফরায়েজী সাহেব তার এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। এরপর বাইতুল মুকররমে মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাহেবের প্রতিনিধি ও আমাদের পক্ষ থেকে জনাব আব্দুস সবুর খান সুমনের নেতৃত্বে ৮ ও ১৯ই এপ্রিল এবং ৯ই মে ২০১৭ ঈসাব্দের বাইতুল মুকাররম মসজিদে পরপর তিনটি বৈঠকের মাধ্যমে বাহাসের বিষয়াবলী চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়।
সেখানে প্রাথমিকভাবে বাহস¯’ল নির্ধারিত হয় ইসলামী ফাউন্ডেশন মিলনায়তন। তখন সেখানকার অনুমোদনের জন্য যৌথ আবেদন করা হয়।
কিš‘ চরম প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সেই অনুমোদন বাতিল করতে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাহেব তার আরেক প্রতিনিধি মাসুদুর রহমান বিক্রমপুরীকে দিয়ে তাহরীকে খতমে নবুওয়াত নামের জৈনপুর দরবারের নিজস্ব সংগঠনের পক্ষ থেকে একই তারিখ ও একই সময়ে রমজান বিষয়ক আলোচনার নামে আরেকটি আবেদন করে সেই যৌথ আবেদন বানচাল করেন।
তারপর তারই প্রস্তাবিত যাত্রাবাড়ী মাদরাসা বাহাসের জন্য নির্ধারিত হয়। দেশবরেণ্য আলেম আল্লামা মাহমুদুল হাসান উপরোক্ত আবেদন মঞ্জুর করে তার আলজামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানীয়া যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেন।
যা আব্বাসী সাহেবের প্রতিনিধি ও মিলাদের পক্ষের মুনাজির মাওলানা মঞ্জুর সাহেব যাত্রাবাড়ী হযরতের সাথে দেখা করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সর্বসম্মতভাবে বাহাসের ¯’ান নির্ধারিত হয় যাত্রাবাড়ী মাদরাসা।
কিš‘ হঠাৎ করে গত ২৩ই মে রাত দশটায় আব্বাসী সাহেব তার দরবারে সাংবাদিকহীন সংবাদ সম্মেলন নামের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তারই প্রস্তাবিত যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় বাহাসে অংশ না নেবার ঘোষণা দেন। সেই সাথে আমাদের সাথে যোগাগোগ করা ছাড়াই সম্পূর্ণ এক তরফাভাবে চরম স্বে”ছাচারিতার পরিচয় দিয়ে নতুন বাহাস ¯’ল নামে “ইঞ্জিনিয়ার ইনষ্টিটিউট” এর নাম ঘোষণা করেন।
আজ ২৫ই মে, ২০১৭ ঈসাব্দ, রোজ বৃহস্পতিবার। সকাল দশটায় সর্বসম্মত বাহাসের ¯’ান যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় আমরা চ্যালেঞ্জগ্রহণকারী পক্ষ মুনাজির ও চ্যালেঞ্জগ্রহণকারীসহ নির্ধারিত সময়ে উপ¯ি’ত হই। কিš‘ বাহাসের চ্যালেঞ্জকারী আব্বাসী সাহেব উপ¯ি’ত হননি।
“যে পক্ষ বাহাসের দিন নির্ধারিত সময়ে উপ¯ি’ত হবে না, তারা পরাজিত ও পলায়নকারী সাব্যস্ত হবে” বাহাসের উক্ত চূক্তিনামা অনুপাতে মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী পরাজিত ও পলায়নকারী হিসেবে প্রমাণিত হলেন।
সেই সাথে তার এক তরফাভাবে ঘোষিত নতুন ¯’ান ইঞ্জিনিয়ার ইনষ্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে উপ¯ি’ত না হয়ে রাস্তার পাশে কিছুক্ষন অব¯’ান করে হক্বপšি’ ওলামায়ে কেরামের আগমনের ভয়ে সকাল ১০ ঘটিকায় ওখান থেকেও পালিয়ে যান, এত করে পূর্বের সন্ধিনামা অনুযায়ী তিনি ডাবল পরাজয় স্বীকার করলেন।
সুতরাং ভবিষ্যতে এ ফিতনাবাজ বাংলাদেশের কোথাও যেন প্রচলিত মিলাদ কিয়াম নিয়ে চ্যালেঞ্জবাজী করতে না পারে, সেদিকে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে আহবান করা হয়েছে।

আরজগুজার
আল্লামা মুফতী মীযানুর রহমান সাঈদ দামাত বারাকাতুহু।
ভাষ্যকারঃ আহলে হক উলামায়ে কেরাম বাংলাদেশ।

0 মন্তব্য করেছেন:

Post a Comment

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

facebbok